উত্তরা হত্যাকাণ্ড: ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত আজ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২০-০৮-২০২৬ ১২:৪৪:৪১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-০৮-২০২৬ ০১:৩১:০৫ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হবে কি না, সে বিষয়ে আজ আদেশ দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এ মামলায় ২৬ আসামির মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন—ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী।
মামলার বাকি ১৮ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপপুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন করসহ পুলিশের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা।
এ ছাড়া পলাতক আসামিদের তালিকায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কয়েকজন কাউন্সিলরও রয়েছেন।
এর আগে গত ৩ আগস্ট ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষ হয়। প্রসিকিউশন অভিযোগ গঠনের আবেদন জানালেও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনাল আজ আদেশের দিন ধার্য করেন।
মামলায় প্রসিকিউশনের অভিযোগ দুটি। প্রথম অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের এমবিএ শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজন নিহত হন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়কে পুলিশের সাঁজোয়া যান বা এপিসির চাকায় পিষ্ট করে হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। একই ঘটনায় আরও পাঁচজনকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ রয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই একই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর ফের নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে রিদোয়ান শরীফ রিয়াদ জয় ও আরও তিনজন নিহত হন। এ ছাড়া রাইসুল রহমান রাতুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগও রয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরা এলাকায় সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা ছিল পরিকল্পিত, ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ।
আজকের আদেশে ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে কি না, সেটিই এখন মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স